শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

নতুবা জাহান্নামে

আমাকে সবাই বলে, চালাক হও।
ভালবেসে বলে তাই কান পেতে শুনি।
ইশারায় বুঝি এই সতর্কবার্তা,
একা কি আর চলা যায়!
পথের কাঁটা পথে রেখে যেতে হয়,
ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করতে হয়,
হাতের মুঠোয় থাকবে মিছরির ছুরি,
অন্যের মতো অন্নের দানা চুরি করে
ইঁটের পাহাড় গড়ে তুলতে হয়।
নতুবা ভীষণ একা যেতে হয় জাহান্নামে।

13/03/2018

রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ক্ষণজন্মা দিন

জীবনকে হারিয়েও হারাতে পারলাম না,
জীবনকে পেয়েও পাওয়া হল না।
সব পেয়েছি একে একে 
মুষ্টি খুলে দেখি কিছু নেই।
হিসাবের খাতা তন্ন তন্ন করে দেখি
কাউকে কিছুই দেইনি কখনো।

আর কতদিন আছে, বলো বলো!
কিছু পাওয়ার চেষ্টা করে দেখি
কিছু দেওয়া হয়ে যাক।
দিনগুলো বড়ো ক্ষণজন্মা!
২০/৯/২০২৫
বাঁশকান্দি 

সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫

আষাড়

আষাঢ়ের আজ প্রথম দিন
বৃষ্টিহীন
বটের ডালে ফেলল কেবা
হলুদ রোদের আভা।

১৬/৬/২০১৪

বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫

অকালে

বিভ্রান্ত প্রকৃতি এনে দেয় কী স্বাদ কখন!
হামলে পড়ে সেইখানে আমাদের বিভোর মন।
জ্যৈষ্ঠের সকালে তাই শরতের হয় প্রদর্শন।
মিছে প্রেম গলে পড়ে কুয়াশার বেশে।
লুটেপুটে খায় কারা বুভুক্ষুর ক্লেশে।
কীসের ক্ষুধা ছড়ায় পেটে আর দেশে।

23/5/2025
বাঁশকান্দি 

শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪

নষ্টের মূল

একটু বস্! এইখানে বস্!
আমি ভাত খেয়ে নিই।
ভাতের এ গন্ধে ঘেন্না ধরে গেছে 
তবু থালাবাটি নিতে হয়।
তুই হাসছিস জানি রে!
আমিও হাসি আর হাঁপিয়ে উঠি।
কাপড় তো পরতে হবে, 
দোকানেও যেতে হবে কেনাকাটা আছে।
ওসবে তোর কী যায় আসে!
তুই তো দিগম্বর।
এবার মুখোশটা পরে নিই।
মুখে বসেই না, একটু চাপ দিই।
হল না, হবে না।
তুই আড়াল হ! যত নষ্টের মূল।

১১ জুলাই ২০২৪

সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৪

অনাত্মীয়


মুমূর্ষু ইঁদুরটাকে নিয়ে খেলা করে পরিপুষ্ট বিড়াল। 
রোম বেয়ে তার তেল চুইয়ে পড়ে।
ফোলা গাল, মোটা লেজ, শিকারি চোখ।
দেখে আমারও চোখ জ্বলে ওঠে।
শিকারি বন্ধু আমার, ভৃত্য আমার, ভক্ত আমার।

এদিকে ইঁদুর তো এক শিকার মাত্র।
আপনা মাংসে হরিণা বৈরী—
হরিণের জন্য দয়া হয়—
হয়তো শিকারি আমার গোত্রের নয়, তাই।
ইঁদুরের রূক্ষ লোম, ঘৃণিত অবয়ব।
নতুবা পদকর্তা তো লিখতেই পারতেন—
আপনা মাংসে ইঁদুরা বৈরী।

সেই বেড়াল যখন চুরি করে অথবা কামড় বসায়
তখন সেও বৈরী হয়ে যায় হাজেলার মতন।

১৪/১০/২০১৮

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০২৪

ফিরে এলে?

তাড়াহুড়ো কিসের এত?
বড়লোক তাই?
বিদায় বিষাদ ঘুচেনি এখনো।
চোখের জল মুছেনি এখনো।
এখনো নাসায় তরল জমাট,
এখনো কণ্ঠে শ্লেষ্মার কপাট।
এখনো ঘর অগোছালো,
এখনো চুলায় জ্বলেনি আলো।
তারই মাঝে তুমি ফিরে এলে?
আসন পেতে দেবো কাকে ঠেলে?
ভাগ বসিয়েছ ভাঁড়ারে যখন
শুনতে তো হবেই কঠোর বচন। 
তুমিও তো ছিলে না শুধুই কবি,
রাজ্য তো তোমার বিচিত্র ছবি।
ঘাম, অশ্রু, বীর্য, রক্ত
ঝরিয়ে তবেই পেয়েছ ভক্ত।
জীর্ণ আসনে বসবে এসো
সূক্ষ্ম কুশাগ্র বিঁধবে, বসো।

20/8/2018 (posted in Fb)